জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব ৪: অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

    জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি- প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব-৪

    কোষ বিভাজন অনুধাবনমূলক প্রশ্ন – জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায়ের পর্ব ৪-এ মাইটোসিস, মিয়োসিস, অ্যামাইটোসিস, ক্রোমোজোম, জিন ও DNA-RNA থেকে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন নমুনা উত্তরসহ দেওয়া হলো। আগের পর্ব পড়তে দেখো পর্ব ৩: ক্রোমোজোম ও জিন।

    এ পাঠে যা রয়েছে-

    ভিডিও ক্লাস: কোষ বিভাজন অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

    উত্তরগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে নিচের ভিডিওটি দেখো:

    কোষ বিভাজন অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

    অনুধাবনমূলক প্রশ্নে সাধারণত দুটি অংশ থাকে: বিষয়টি কী (জ্ঞান) এবং কেন বা কীভাবে (ব্যাখ্যা)। নিচের উত্তরগুলো সেভাবেই সাজানো।

    ১. অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয় কেন?

    অ্যামাইটোসিসে নিউক্লিয়াস কোনো মধ্যবর্তী ধাপ বা স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি ছাড়াই সরাসরি দুই ভাগ হয়ে যায়। কোষটি সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে বিভাজিত হয় বলে একে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়।

    ২. মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক কোষ বিভাজন বলা হয় কেন?

    মাইটোসিসে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা, গঠন ও গুণাবলি মাতৃকোষের সমান থাকে। মাতৃকোষ ও অপত্য কোষের মধ্যে এই সমতা বজায় থাকে বলে একে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।

    ৩. মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন বলা হয় কেন?

    মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দুবার বিভাজিত হয় কিন্তু ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হয়। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়, তাই একে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

    ৪. ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেন?

    ক্রোমোজোমে জিন অবস্থান করে, আর জিনই জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ক্রোমোজোম বংশগত বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে বহন করে নিয়ে যায়, তাই একে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।

    ৫. মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয় কেন?

    গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটরশুঁটি গাছ নিয়ে পরীক্ষা করে প্রথম বংশগতির সূত্র আবিষ্কার করেন। তাঁর এই সূত্রগুলোর ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক জিনতত্ত্ব গড়ে উঠেছে, তাই তাঁকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয়।

    ৬. মাইটোসিসের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

    মাইটোসিস দেহকোষে ঘটে। একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়। নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম দুটোই একবার করে বিভাজিত হয় এবং অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে।

    ৭. মিয়োসিসের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

    মিয়োসিস জনন মাতৃকোষে ঘটে। একটি কোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়। নিউক্লিয়াস দুবার কিন্তু ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হয়, ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।

    ৮. অ্যামাইটোসিস ও মাইটোসিস কোষ বিভাজনের দুটি পার্থক্য লেখো।

    অ্যামাইটোসিসে নিউক্লিয়াস সরাসরি ভাগ হয়, মাইটোসিসে কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপে ভাগ হয়। অ্যামাইটোসিসে স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি হয় না, কিন্তু মাইটোসিসে স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি হয়।

    ৯. কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা কী?

    কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও প্রজনন ঘটে। এছাড়া জননকোষ তৈরি এবং বংশপরম্পরায় বৈশিষ্ট্য সঞ্চারণের জন্যও কোষ বিভাজন অপরিহার্য।

    ১০. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ধাপসমূহের নাম লেখো।

    মাইটোসিসে নিউক্লিয়াসের বিভাজন পাঁচটি ধাপে ঘটে: প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ। এরপর সাইটোকাইনেসিসের মাধ্যমে সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়।

    ১১. মিয়োসিস কোষ বিভাজন কেন ঘটে?

    যৌন প্রজননকারী জীবে হ্যাপ্লয়েড জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরির জন্য মিয়োসিস ঘটে। এর ফলে নিষেকের পর জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা আবার স্বাভাবিক হয় এবং প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে।

    ১২. মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের দুটি পার্থক্য লেখো।

    মাইটোসিস দেহকোষে ঘটে, মিয়োসিস ঘটে জনন মাতৃকোষে। মাইটোসিসে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা ঠিক থাকে, কিন্তু মিয়োসিসে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়।

    ১৩. মাইটোসিস কোষ বিভাজন কেন ঘটে?

    জীবের দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষতস্থান পূরণ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষের প্রতিস্থাপনের জন্য মাইটোসিস ঘটে। অনেক উদ্ভিদের অঙ্গজ প্রজননও মাইটোসিসের মাধ্যমে হয়।

    ১৪. ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিসের পার্থক্য লেখো।

    ক্যারিওকাইনেসিস হলো নিউক্লিয়াসের বিভাজন, আর সাইটোকাইনেসিস হলো সাইটোপ্লাজমের বিভাজন। কোষ বিভাজনে প্রথমে ক্যারিওকাইনেসিস এবং পরে সাইটোকাইনেসিস ঘটে।

    ১৫. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কে ছিলেন?

    গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ছিলেন অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ও বিজ্ঞানী। তিনি মটরশুঁটি গাছ নিয়ে পরীক্ষা করে বংশগতির মৌলিক সূত্রগুলো আবিষ্কার করেন এবং জিনতত্ত্বের জনক হিসেবে পরিচিত।

    ১৬. DNA ও RNA বংশগতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    DNA জীবের সব বংশগত তথ্য বহন করে এবং প্রতিলিপনের মাধ্যমে তা পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছে দেয়। RNA সেই তথ্য অনুযায়ী প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, আর কিছু ভাইরাসে RNA নিজেই বংশগতির উপাদান।

    ১৭. মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে ধারাবাহিক পদ্ধতি বলা হয় কেন?

    মাইটোসিস একটি অবিরাম প্রক্রিয়া, যার ধাপগুলো একটির পর একটি নির্দিষ্ট ক্রমে ঘটে এবং ধাপগুলোর মধ্যে কোনো বিরতি থাকে না। বোঝার সুবিধার জন্য একে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়, তাই একে ধারাবাহিক পদ্ধতি বলা হয়।

    ১৮. অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    যে কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস প্রথমে লম্বা হয়ে মাঝখানে সরু হয় এবং পরে সরাসরি দুই ভাগ হয়ে যায়, সাথে সাইটোপ্লাজমও ভাগ হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়, তাকে অ্যামাইটোসিস বলে। ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ও অ্যামিবার মতো সরল জীবে এটি দেখা যায়।

    ১৯. মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    যে বিভাজনে একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার করে বিভাজিত হয়ে মাতৃকোষের মতো সমান ক্রোমোজোমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে। এটি দেহকোষে ঘটে এবং জীবের বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।

    ২০. মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    যে বিভাজনে জনন মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস দুবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হয়ে অর্ধেক ক্রোমোজোমবিশিষ্ট চারটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মিয়োসিস বলে। এর মাধ্যমে জননকোষ তৈরি হয়।

    ২১. ক্রোমোজোম কী? ব্যাখ্যা করো।

    নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকা সুতার মতো যে গঠন DNA ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি এবং জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের সময়, বিশেষ করে মেটাফেজ ধাপে, এটি সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়।

    ২২. জিন বলতে কী বোঝায়?

    ক্রোমোজোমে অবস্থিত DNA-র যে নির্দিষ্ট অংশ জীবের কোনো একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং তা বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত করে, তাকে জিন বলে।

    ২৩. স্পিন্ডল যন্ত্র ও স্পিন্ডল তন্তু কী? ব্যাখ্যা করো।

    কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ধাপে সূক্ষ্ম তন্তু দিয়ে তৈরি মাকুর মতো যে গঠন সৃষ্টি হয়, তাকে স্পিন্ডল যন্ত্র বলে। আর এই যন্ত্র যে সূক্ষ্ম তন্তুগুলো দিয়ে গঠিত, সেগুলো স্পিন্ডল তন্তু, যা ক্রোমোজোমকে মেরুর দিকে টেনে নিতে সাহায্য করে।

    ২৪. মাইটোসিসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ধাপের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    মাইটোসিসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ধাপ হলো প্রোফেজ। এ ধাপে নিউক্লিয়াস থেকে পানি কমে যায়, ক্রোমোজোম কুণ্ডলিত হয়ে খাটো ও মোটা হয় এবং প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত দেখা যায়।

    ২৫. জাইগোট সৃষ্টিতে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    মিয়োসিসের মাধ্যমে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করে হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি হয়। এদের মিলনে যে জাইগোট হয়, তাতে ক্রোমোজোম সংখ্যা আবার পূর্ণ হয়। মিয়োসিস না হলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত।

    উত্তর লেখার টিপস

    কোষ বিভাজন অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরে প্রথম লাইনে সংজ্ঞা বা মূল তথ্য লেখো, তারপর এক-দুই লাইনে কারণ বা উদাহরণ দাও। এতে উত্তর ছোট হলেও পুরো নম্বর পাওয়া সহজ হয়।

    আরও পড়ুন

    আরও জানতে দেখুন Cell division – Wikipedia।

    Rabaya Bashri: Rabaya Bashri is a Lecturer with 14 years of teaching experience in biological science. Just after complete her M.Sc (Botany) she joined teaching profession. Having First Class all through her educational life she never seek for other job. She served most renowned school and colleges in Dhaka and Narayangonj city.