ক্রোমোজোম ও জিন প্রশ্ন উত্তর – জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায়ের পর্ব ৩-এ ক্রোমোজোম, জিন, DNA, হ্যাপ্লয়েড-ডিপ্লয়েড ও জাইগোট থেকে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সংক্ষিপ্ত উত্তরসহ দেওয়া হলো। আগের পর্ব পড়তে দেখো পর্ব ২: মিয়োসিস ও বংশগতি।

এ পাঠে যা রয়েছে-

ভিডিও ক্লাস: ক্রোমোজোম ও জিন

প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য নিচের ভিডিওটি দেখো:

https://youtu.be/2qxlU3LQJvw

ক্রোমোজোম ও জিন প্রশ্ন উত্তর

১. TMV কী?

TMV-এর পূর্ণরূপ Tobacco Mosaic Virus। এটি তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টিকারী একটি ভাইরাস, যার বংশগতির উপাদান হলো RNA।

২. প্রতিটি ক্রোমোজোমের কয়টি অংশ?

প্রতিটি ক্রোমোজোমের প্রধান দুটি অংশ হলো ক্রোমাটিড ও সেন্ট্রোমিয়ার। বিভাজনের সময় একটি ক্রোমোজোমে দুটি ক্রোমাটিড দেখা যায়, যেগুলো সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত থাকে।

৩. সেন্ট্রোমিয়ার কী?

ক্রোমোজোমের যে নির্দিষ্ট স্থানে দুটি ক্রোমাটিড পরস্পর যুক্ত থাকে, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।

৪. ক্রোমাটিড কী?

কোষ বিভাজনের সময় প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে যে দুটি সমান অংশে বিভক্ত দেখা যায়, তার প্রতিটিকে ক্রোমাটিড বলে।

৫. বংশগতি সম্বন্ধে সঠিক ধারণা মেন্ডেল প্রথম কখন দিয়েছিলেন?

গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ১৮৬৫ সালে মটরশুঁটি গাছ নিয়ে তাঁর গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন, যা ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।

৬. বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে কোষের কোন অঙ্গাণু?

নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভেতরের ক্রোমোজোমই বংশগতির ধারা বহন করে।

৭. ক্রোমোজোম কী?

নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকা সুতার মতো যে গঠন জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।

৮. ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান কোনটি?

ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA, সাথে প্রোটিনও থাকে।

৯. জিন কী?

ক্রোমোজোমে অবস্থিত DNA-র যে নির্দিষ্ট অংশ জীবের একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে জিন বলে।

১০. ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান কোনটি?

জিন।

১১. হ্যাপ্লয়েড কী?

যে কোষে প্রতিটি ক্রোমোজোম একটি করে থাকে, অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যা এক সেট (n), তাকে হ্যাপ্লয়েড কোষ বলে। যেমন, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু।

১২. ডিপ্লয়েড কী?

যে কোষে ক্রোমোজোমগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে, অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যা দুই সেট (2n), তাকে ডিপ্লয়েড কোষ বলে। যেমন, মানুষের দেহকোষ।

১৩. জাইগোট কী?

শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে যে ডিপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়, তাকে জাইগোট বলে।

১৪. ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ কোনটি?

DNA।

১৫. জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে কোন প্রক্রিয়ায়?

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে।

১৬. শুক্রাণু + ডিম্বাণু = ?

জাইগোট।

১৭. জনন কোষ একত্রিত হয়ে কী তৈরি করে?

জাইগোট।

১৮. ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা বজায় রাখে কোন কোষ বিভাজন?

মিয়োসিস। মিয়োসিসে জননকোষে ক্রোমোজোম অর্ধেক হয়, আর নিষেকের পর আবার পূর্ণ সংখ্যা ফিরে আসে। ফলে বংশপরম্পরায় প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে।

১৯. অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস বিভাজনের ফলে কী ক্ষতি হয়?

অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের ফলে টিউমার, এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।

২০. মানুষের প্রতিটি দেহকোষে কয়টি ক্রোমোজোম রয়েছে?

৪৬টি, অর্থাৎ ২৩ জোড়া।

২১. মানুষের প্রতিটি জননকোষে কয়টি ক্রোমোজোম রয়েছে?

২৩টি।

এক নজরে মনে রাখো

  • মানুষের দেহকোষে ৪৬টি (২৩ জোড়া) এবং জননকোষে ২৩টি ক্রোমোজোম থাকে।
  • দেহকোষ ডিপ্লয়েড (2n), জননকোষ হ্যাপ্লয়েড (n)।
  • জিনের রাসায়নিক রূপ DNA, আর জিন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।

ক্রোমোজোম ও জিন প্রশ্ন উত্তর থেকে জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক দুই ধরনের প্রশ্নই আসে, তাই সংখ্যাগুলো বিশেষভাবে মনে রাখো।

আরও পড়ুন

আরও জানতে দেখুন Chromosome – Wikipedia।