জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব ১: কোষ বিভাজন ও মাইটোসিস

    কোষ বিভাজন প্রশ্ন ও উত্তর – জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায়ের পর্ব ১-এ কোষ বিভাজন, মাইটোসিস, মিয়োসিস ও অ্যামাইটোসিস থেকে পরীক্ষায় আসার মতো ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সংক্ষিপ্ত উত্তরসহ দেওয়া হলো। প্রতিটি উত্তর সহজ ভাষায় লেখা, আর বিস্তারিত বোঝার জন্য সাথে একটি ভিডিও ক্লাসও আছে।

    এ পাঠে যা রয়েছে-

    ভিডিও ক্লাস: কোষ বিভাজন প্রশ্ন ও উত্তর

    প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য নিচের ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে দেখো:

    https://youtu.be/L44Y4Y13d2c

    কোষ বিভাজন প্রশ্ন ও উত্তর (জ্ঞানমূলক)

    ১. মাইটোসিস কী?

    যে কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে মাতৃকোষের সমান সংখ্যক ক্রোমোজোমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে। একে সমীকরণিক বিভাজনও বলা হয়।

    ২. অ্যামাইটোসিস কী?

    যে বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম কোনো জটিল ধাপ ছাড়াই সরাসরি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ বিভাজন বলে। ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি এককোষী জীবে এটি দেখা যায়।

    ৩. মিয়োসিস কী?

    যে কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস পরপর দুইবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোম মাত্র একবার বিভাজিত হয়, ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়, তাকে মিয়োসিস বলে। একে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলা হয়।

    ৪. সাইটোকাইনেসিস কী?

    কোষ বিভাজনের সময় সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

    ৫. ক্যারিওকাইনেসিস কী?

    কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।

    ৬. ইন্টারফেস কী?

    পরপর দুটি কোষ বিভাজনের মধ্যবর্তী প্রস্তুতিমূলক পর্যায়কে ইন্টারফেস বলে। এ সময় কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে এবং DNA-র প্রতিলিপন ঘটে।

    ৭. কোষ বিভাজন কাকে বলে?

    যে প্রক্রিয়ায় একটি জীবকোষ বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক কোষে পরিণত হয়, তাকে কোষ বিভাজন বলে।

    ৮. মাতৃকোষ কী?

    যে কোষটি বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে, তাকে মাতৃকোষ বলে।

    ৯. অপত্য কোষ কী?

    মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে যে নতুন কোষগুলো তৈরি হয়, সেগুলোকে অপত্য কোষ বলে।

    ১০. কোষ বিভাজন কত ধরনের?

    কোষ বিভাজন তিন ধরনের: অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মিয়োসিস।

    ১১. স্পিন্ডল যন্ত্র কী?

    কোষ বিভাজনের সময় (প্রো-মেটাফেজ ধাপে) সূক্ষ্ম তন্তু দিয়ে তৈরি মাকুর মতো যে গঠন সৃষ্টি হয়, তাকে স্পিন্ডল যন্ত্র বলে।

    ১২. স্পিন্ডল তন্তু কাকে বলে?

    স্পিন্ডল যন্ত্র যে সূক্ষ্ম তন্তুগুলো দিয়ে গঠিত, সেগুলোকে স্পিন্ডল তন্তু বলে। এগুলো ক্রোমোজোমকে মেরুর দিকে টেনে নিতে সাহায্য করে।

    ১৩. বিষুবীয় অঞ্চল কী?

    স্পিন্ডল যন্ত্রের দুই মেরুর মাঝখানের সবচেয়ে প্রশস্ত অংশকে বিষুবীয় অঞ্চল বলে।

    ১৪. কোষ প্লেট কাকে বলে এবং কোথায় দেখা যায়?

    টেলোফেজ ধাপের শেষে বিষুবীয় অঞ্চলে যে পাতলা প্রাচীর তৈরি হয়ে সাইটোপ্লাজমকে দুই ভাগে ভাগ করে, তাকে কোষ প্লেট বলে। এটি উদ্ভিদকোষে দেখা যায়।

    ১৫. মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়?

    মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়: ক্যারিওকাইনেসিস (নিউক্লিয়াসের বিভাজন) এবং সাইটোকাইনেসিস (সাইটোপ্লাজমের বিভাজন)।

    ১৬. মাইটোসিসে নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কয়টি ধাপে ভাগ করা যায়?

    পাঁচটি ধাপে: প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ।

    ১৭. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ধাপ কোনটি?

    প্রোফেজ হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ধাপ।

    ১৮. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন ধাপে স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টি হয়?

    প্রো-মেটাফেজ ধাপে স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টি হয়।

    ১৯. মাইটোসিসের কোন ধাপে ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চলে থাকে?

    মেটাফেজ ধাপে ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে।

    মনে রাখার টিপস

    মাইটোসিসের পাঁচটি ধাপ ক্রমানুসারে মনে রাখতে প্রথম অক্ষরগুলো মিলিয়ে পড়তে পারো: প্রো – প্রো-মে – মে – অ্যা – টে। আর মনে রেখো, মাইটোসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা ঠিক থাকে, মিয়োসিসে অর্ধেক হয়। কোষ বিভাজন প্রশ্ন ও উত্তর থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্নের প্রায় সবই এই দুটি পার্থক্য ঘিরে আসে।

    আরও পড়ুন

    আরও জানতে দেখুন Cell division – Wikipedia।

    Rabaya Bashri: Rabaya Bashri is a Lecturer with 14 years of teaching experience in biological science. Just after complete her M.Sc (Botany) she joined teaching profession. Having First Class all through her educational life she never seek for other job. She served most renowned school and colleges in Dhaka and Narayangonj city.